Skip to main content

বাংলার যুব সাথী প্রকল্পের যোগ্যতার মানদণ্ড (Eligibility Criteria)

বাংলার যুব সাথী প্রকল্পের সুবিধা কারা গ্রহণ করতে পারবেন? বাংলার যুব সাথী কর্মসূচি ঘোষণার পর থেকে রাজ্যের তরুণ সমাজের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ জিজ্ঞাসা উঠেছে যে এই স্কিমের অন্তর্ভুক্ত কারা হবেন এবং কোন কোন ব্যক্তিরা মাসিক ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার অধিকারী হবেন? আসুন তাহলে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই রাজ্য প্রশাসন এই উদ্যোগের সুবিধা প্রদানের জন্য কী ধরনের শর্তাবলী এবং মাপকাঠি স্থির করেছে।

মূল যোগ্যতার সংক্ষিপ্ত বিবরণ (Key Highlights)

  • বয়সসীমা: প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে। (০১/০৪/২০২৬ তারিখ অনুযায়ী বয়স হিসাব করতে হবে)।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা: কমপক্ষে মাধ্যমিক (ম্যাট্রিকুলেশন) উত্তীর্ণ হওয়া আবশ্যক।
  • বাসস্থান সংক্রান্ত শর্ত: আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
  • কর্মসংস্থান অবস্থা: প্রার্থীকে বর্তমানে বেকার বা কর্মহীন থাকতে হবে।

বিস্তারিত যোগ্যতার প্রয়োজনীয়তা (Detailed Requirements)

পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলার যুব সাথী কর্মসূচির জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম এবং যোগ্যতার মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করেছে:

১. পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা

বাংলার যুব সাথী স্কিমের সুবিধা শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের নিয়মিত এবং স্থায়ী বাসিন্দাদের জন্য প্রযোজ্য। ফলস্বরূপ, এই রাজ্যের যেকোনো জেলায় স্থায়ীভাবে বসবাসকারী তরুণ-তরুণীরাই এই প্রকল্পের প্রাথমিক আবেদনকারী হিসাবে বিবেচিত হবেন।

২. শিক্ষিত কর্মহীন যুবক- যুবতী

বাংলার যুব সাথী উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষিত কিন্তু কর্মসংস্থানহীন যুবক-যুবতীদের আর্থিক সাপোর্ট প্রদান করা। যেসব তরুণ-তরুণী উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন কিংবা চাকরি খুঁজছেন এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য নিজেদের গড়ে তুলছেন, তাদের বিশেষভাবে এই কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

৩. শিক্ষাগত যোগ্যতা

বাংলার যুব সাথী স্কিমে আবেদনের জন্য একটি ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় সর্বনিম্ন মাধ্যমিক অথবা তার সমতুল্য পরীক্ষায় সফল যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়ার যোগ্য। মাধ্যমিক থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা তার ঊর্ধ্বে যেকোনো শিক্ষাস্তরের ব্যক্তিরা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন।

৪. আবেদকের বয়স সীমা

বাংলার যুব সাথী কর্মসূচির জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি নির্দিষ্ট বয়স সীমা নির্ধারণ করেছে, যেখানে ২১ বছর বয়স থেকে শুরু করে ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত তরুণ-তরুণীরা এই স্কিমের জন্য আবেদন জমা দিতে পারবেন।

৫. অন্যান্য শিক্ষাগত প্রকল্পের সুবিধা ভোগী

যেসব তরুণ-তরুণী এই উদ্যোগের জন্য আবেদন করতে আগ্রহী, তারা কেবলমাত্র তখনই এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন যখন তারা বর্তমানে অন্য কোনো শিক্ষা-সম্পর্কিত প্রকল্প থেকে সুবিধা বা বৃত্তি গ্রহণ করছেন না। যদি আবেদনকারী রাজ্য প্রশাসনের অন্য কোনো সামাজিক নিরাপত্তা স্কিমের অধীনে আর্থিক সাহায্য না পেয়ে থাকেন, তাহলেই তারা এই প্রকল্পের সুবিধাভোগী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন।

আবেদন করতে প্রস্তুত?

আপনি যদি উপরের সমস্ত যোগ্যতার মানদণ্ড পূরণ করেন, তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখে নিন এবং আবেদনের প্রক্রিয়া শুরু করুন।

যোগ্যতা সম্পর্কিত সাধারণ প্রশ্ন (Eligibility FAQs)

আমার বয়স ৪০ বছরের বেশি, আমি কি আবেদন করতে পারব?

না, এই কর্মসূচির সুবিধা কেবলমাত্র ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সের মধ্যে থাকা বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য নির্ধারিত। জানুয়ারি ১, ২০২৬ তারিখ অনুসারে আপনার বয়স এই নির্দিষ্ট সীমার ভিতরে থাকতে হবে।

আমি স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাশ, আমি কি আবেদন যোগ্য?

হ্যাঁ, সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে মাধ্যমিক পাশ থাকা প্রয়োজন। অতএব আপনি যদি স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা আরো উচ্চতর কোনো ডিগ্রিধারী হন এবং কর্মহীন থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চিতভাবে আবেদন করতে পারবেন।

আমি কি ডিস্টেন্স লার্নিং বা মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করলে আবেদন করতে পারব?

হ্যাঁ, সরকার স্বীকৃত যেকোনো শিক্ষা পর্ষদ অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করার যোগ্যতা রাখেন।

পরিবারের কতজন সদস্য এই সুবিধা পেতে পারে?

সাধারণভাবে প্রতি পরিবার থেকে একজন বেকার সদস্য এই স্কিমের সুবিধা লাভ করার জন্য যোগ্য বলে গণ্য করা হয় (যদিও সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এটি পরিবর্তনশীল হতে পারে)।

আমি যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা পাই, তাহলেও কি আবেদন করা যাবে?

না, আপনি যদি ইতিমধ্যে রাজ্য কিংবা কেন্দ্র সরকারের অন্য কোনো বৃত্তি বা ভাতা (যেমন যুবশ্রী স্কিম) গ্রহণ করছেন, তাহলে আপনি এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন না।
Share on WhatsApp